দিল্লীতে বিপর্যস্ত হওয়ার পর রাজ্য কমিটি গুলোকে বন্ধ করার কথা বললেন কংগ্রেস সভাপতি!

দিল্লীতে (Delhi) আম আদমি পার্টির (Aam Aadmi Party) ঝড়ে বিজেপি (Bharatiya Janata Party) নাস্তানাবুদ। ৭০ টি আসনের মধ্যে ৬২ টি আসনে জয়লাভ করে কেজরীবাল (Kejriwal) আবারও দিল্লীর মসনদে বসেছেন। আরেকদিকে, কংগ্রেস দিল্লীতে একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি। উপরন্তু ৬৩ আসনে কংগ্রেস প্রার্থীর জমানত জব্দ হয়েছে। কংগ্রেসের এই খারাপ অবস্থা নিয়ে এবার দলের অন্দরে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। দিল্লীতে মহিলা কংগ্রেসের সভাপতি তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখার্জী (Sharmistha Mukherjee) প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি কে বন্ধ করার দাবি তুলেছেন।

প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের বয়ানের পর শর্মিষ্ঠা মুখার্জী ট্যুইট করে জবাব দেন। উনি লেখেন, ‘স্যার, আমি শুধু এটা জানতে চাই যে কংগ্রেস কি এখন বিজেপিকে হারানর জন্য আঞ্চলিক দল গুলোর আউটসোর্স হয়ে উঠেছে? যদি তাই না হয়, তাহলে আম আদমি পার্টির জয়ে এত গর্ব কিসের? তাহলে আমাদের প্রদেশ কংগ্রেসে কমিটি গুলোকে বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।”

উল্লেখ্য, কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতা পি চিদ্মবরম দিল্লী বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির জয়কে বিরোধীদের মনোবল বাড়ার পরিণাম বলে আখ্যা দিয়েছেন। উনি ট্যুইট করে বলেন, ভোটাররা সেই রাজ্যের বিচারের প্রতিনিধিত্ব করে, যেখান থেকে তাঁরা ভোটার। দিল্লীর ভোটাররা বিরোধীদের বিশ্বাস বাড়ানোর কাজ করেছে, এবার বিজেপিকে সমস্ত রাজ্যে হারানো সম্ভব।

উনি লেখেন, দিল্লীর ভোট অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় আলাদা। কারণ দিল্লী মিনি ইন্ডিয়া। চিদম্বরম বলে, মনে করুন, যখন দিল্লীতে ভোট হয়েছিল তখন লক্ষ লক্ষ মালায়ালাম, তামিল, তেলেগু, বাঙালি, গুজরাটি আর ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা মানুষ ভোট দিয়েছিল।

পি চিদম্বরমের এই ট্যুইটের পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে শর্মিষ্ঠা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ভঙ্গ করার দাবি তোলেন।

দিল্লী নির্বাচনে দেখা মিললো মুসলিমদের ব্যাপক একতা, হিন্দু ভোটের বড়ো বিভাজন! চর্চা সোশ্যাল মিডিয়ায়

দিল্লীর(Delhi) বিধানসভা নির্বাচনের ফলফল সামনে চলে এসেছে। আরো একবার আম-আদমি পার্টি দিল্লিতে জয়লাভ করেছে। দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী পদে পুনরায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল বসবেন। দিল্লিতে বিগত ৫ বছরে আম-আদমি পার্টি যা করেছে তার ফলস্বরূপ হিসেবে আম-আদমি পার্টি জয়লাভ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেজরিওয়াল এর পার্টি মূলত দিল্লীতে ফ্রী বিদ্যুৎ, মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবা ইত্যাদির কারণে জয়লাভ করেছে।

তবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে একটা নতুন দাবি সামনে আসছে। দাবি অনুযায়ী দিল্লীতে কেজরিওয়াল জেতার জন্য দুটি কারণ রয়েছে। এক হলো ফ্রিতে বেশকিছু পরিষেবা প্রদান, দুই মুসলিমদের একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট করা। এই দুইটি কারণ নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোট দিয়ে রাজনৈতিক চর্চা আরম্ভ হয়েছে।

বলা হচ্ছে দিল্লীতে ১২% ভোটার্স মুসলিম রয়েছেন তবে তদের ভোট দেওয়ার হার বেশ ভালো। হিন্দুদের অনেকাংশ ভোটের দিনকে ছুটির দিন মনে করে সময় কাটায়। একই সাথে মুসলিম ভোট এক তরফা পড়ে অন্যদিকে হিন্দু ভোট ব্যাপক হারে ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সোজা ভাষায় হিন্দুদের একতার অভাব ও মুসলিমদের জোটকে কেজরিওয়ালের জেতার জন্য একটা বড়ো প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মুসলিমরা একদিকে জোট বেঁধে বিজেপি বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে হিন্দুরা কেজরিওয়াল থেকে পাওয়া সুবিধার খাতিরে বিভক্ত হয়েছে বলে দাবি।

প্রসঙ্গত জানিয়ে দি, AAP পার্টির কিছুটা বামঘেঁষা বলেও দাবি করা হয়। বহুবার এই পার্টির বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ উঠেছে। দিল্লীর শাহীনবাগে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন CAA এর বিরোধীতায় নেমেছিল। সেখানেও কেজরিওয়ালের পার্টি সমর্থন জুগিয়েছিল।

সংরক্ষণ নিয়ে বড়বড় বয়ান দিচ্ছিল প্রিয়াঙ্কা বঢরা! ট্যুইটারে ওনাকে ধুয়ে দিলেন বলিউডের অভিনেত্রী

আজ দিল্লী নির্বাচন নিয়ে সবার নজর ছিল, দিল্লীতে প্রত্যাশা মতো আম আদমি পার্টি আবার ক্ষমতায় ফিরেছে, বিজেপি (Bharatiya Janata Party) গত বিধানসভার নির্বাচন থেকে একটু ভালো ফল করলেও দাগ কাটতে পারেনি। আরেকদিকে কংগ্রেস গত বারের মতো এবারেও দিল্লী থেকে শুন্য হাতেই ফিরল। কিন্তু দিল্লী নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে কংগ্রেসের মহাসচিব প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi Vadra) বিজেপিকে আক্রমণ করেন সংরক্ষণ ইস্যু নিয়ে। আর এরপর বলিউড অভিনেত্রী পূজা বেদি (Pooja Bedi) প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মোক্ষম জবাব দিলেন।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নিযুক্তি আর প্রোমোশন এর ইস্যু নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আর বিজেপির সরকারের উপর আক্রমণ করেন। উনি বিজেপির উপর অভিযোগ এনে বলেন, বিজেপি দেশে সংরক্ষণ শেষ করার চেষ্টা করছে।

প্রিয়াঙ্কা এই বয়ানে অভিনেত্রী পূজা বেদি রেগে লাল হয়ে যান। উনি ট্যুইটারে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে এই ইস্যু নিয়ে মোক্ষম জবাব দেন। পূজা বেদির এই ট্যুইট সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব ভাইরাল হচ্ছে।

অভিনেত্রী পূজা বেদি বিজেপিকে সমর্থন করে নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘প্রিয় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আমার হিসেবে এটা খুবই ভালো যে, বিজেপি কোটা সিস্টেম আর সংরক্ষণ খতম করতে চাইছে। যদি আমরা এক ভারত আর এক মেরিটে বিশ্বাস রাখি, তাহলে আমাদের এই বিভাজনকারী রাজনীতিকে শেষ করা উচিৎ। এই পদক্ষেপ নিশ্চিত রুপে সঠিক দিকেই নেওয়া হয়েছে।”

শুধু তাই নয়, পূজা বেদি লেখেন … ‘এই সংরক্ষণ প্রণালী আজীবনের জন্য কাউকে দেওয়া যেতে পারেনা।” পূজা বেদির এই ট্যুইট সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেল ভাইরাল হচ্ছে। অনেকেই এই ট্যুইট শেয়ার করে ওনার প্রশংসা করছেন।

 

জীবনের শেষ নিশ্বাস গুনছে কাশ্মীরি নেতা সায়েদ আলী শাহ গিলানি! সারাজীবন করেছে ভারত বিরোধিতা

কাশ্মীরের কুখ্যাত আতঙ্কবাদী ও দেশদ্রোহীদের তালিকার শীর্ষে থাকা সায়েদ আলী শাহ গিলানির (Syed Ali Shah Geelani) ভিডিও সামনে এসেছে। ৩৭০ ধারা অপসারণের পর এই প্রথম এই কট্টরপন্থীর ভিডিও সামনে এসেছে। আগের সরকারের আমলে আলী শাহ গিলানি সরকারকে চাপে রেখে বহু সুবিধা ভোগ করতো। কিন্তু মোদী সরকারের দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর সব ভোগবিলাসিত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উল্টে তাকে কেন্দ্র সরকার আন্টি ডোজ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

ফলস্বরূপ এখন আলী শাহ গিলানি তার জীবনের শেষদিনগুলি গুনছে। বলা হচ্ছে আলী শাহ গিলানি এখন বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ানোর অবস্থাতেও নেই। এক সময় বিচ্ছিন্নতবাদী শক্তির বড়ো নেতা হিসেবে পরিচিত ছিল এই গিলানি। তবে ধারা ৩৭০ অপসারণের পর থেকে খেলা অন্যদিকে ঘুরে গেছে।

আলী শাহ গিলানির এক ভিডিও সামনে এসেছে যেখানে দেখা মিলছে যে তার অবস্থা খুবই দুর্বল। ভিডিওতে গিলানি বলছে, পাক এ সরজামিন। গিলানি বিছানা শয্যায় রয়েছে এবং শেষদিনের মুহূর্ত যেন সামনে চলে এসেছে। এর আগে উমর আব্দুল্লাহর ছবি সামনে এসেছিল যেখানে তাকেও দুর্বল মনে হয়েছিল। উমর আব্দুল্লাহকে নিয়ে সেই সময় দেশের রাজনীতি বেশ চর্চায় উঠেছিল।

পৃথিবীর স্বর্গ হিসেবে পরিচয় পাওয়া কাশ্মীরে পাকিস্তানের বিগত কিছু দশকে যে আতঙ্কবাদ ছাড়িয়েছে তার দরুন কাশ্মীর তার পরিচয় হারিয়ে ফেলেছে। তবে ধারা ৩৭০ অপসারণের পর থেকে কাশ্মীরে আতঙ্কবাদী অনুপ্রবেশ ও কট্টরপন্থী গতিবিধি প্রায় বন্ধ হয়েছে। সাথে সাথে কাশ্মীরের বিচ্ছনতাশক্তিকে উস্কানি দেওয়া নেতাদের গ্রেফতার করে গৃহবন্দি করা হয়েছে।

দেশদ্রোহ এর মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই গায়েব হার্দিক প্যাটেল! হন্যে হয়ে খুঁজছে …

গুজরাটের (Gujarat) পাটিদার নেতা হার্দিক প্যাটেল (Hardik Patel) বিগত কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ। হার্দিক প্যাটেলের এরকম ভাবে নিখোঁজ হওয়াতে গোটা গুজরাটে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হার্দিকের স্ত্রী কিঞ্জল প্যাটেল (Kinjal Patel) পাটিদার নেতার নিখোঁজ হওয়ার পিছনে রাজ্য সরকারের ষড়যন্ত্র আছে বলে জানিয়েছে। যদিও গুজরাট পুলিশ সুপার কিঞ্জলের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে।

কিঞ্জল মিডিয়ার সাথে কথা বলার সময় বলেন, আমার স্বামী আর আমার পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অত্যাচার করা হচ্ছে। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ ছাড়াই দেশদ্রোহ এর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই কাজ সরকারের বড় ষড়যন্ত্র। আপনাদের জানিয়ে দিই, ২০১৫ সালে হওয়া সংরক্ষণের জন্য হওয়া আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা হার্দিক প্যাটেল লাগাতার আইনি সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছেন। হার্দিকের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত ২০ এর বেশি মামলা দায়ের আছে। আর সেই মামলা গুলোর মধ্যে বেশিরভাগ দেশদ্রোহ আর শান্তিভঙ্গের।

কিঞ্জল অভিযোগ এনে বলেন, ওনার স্বামী হার্দিক গত ১৮ই জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ। এর আগে তাঁকে একটি মামলায় গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। যদিও পড়ে তাঁকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কিঞ্জলের সমস্ত অভিযোগই গুজরাট পুলিশ খারিজ করে দিয়েছে। গুজরাট পুলিশের তরফ থেকে পরিস্কার জানানো হয়েছে যে, হার্দিকের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে তাঁরা কিছু জানেনা।

পাটিদার নেতা হার্দিক প্যাটেলের এরকম ভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে গোটা গুজরাটে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আরেকদিকে গুজরাট পুলিশের মহা নির্দেশক শিবানন্দ ঝাঁ পুলিশের উপরে লাগানো সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। উনি বলেছেন, হার্দিক প্যাটেল নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।

কমছে কেজরীবালের আসন! বিজেপির সাথে ফারাক মাত্র ১১ আসনের

বহু প্রতীক্ষিত দিল্লী বিধানসভার ভোটের (Delhi Assembly Election) আজ ফলাফল ঘোষণা হচ্ছে। প্রত্যাশা, অপেনিয়ন পোল আর এক্সিট পোল অনুযায়ী দিল্লীতে একছত্র ভাবে ক্ষমতায় আসতে চলেছে আম আদমি পার্টি (AAP)। এবং তৃতীয় বারের জন্য দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন আম আদমি পার্টির সংস্থাপক অরবিন্দ কেজরীবাল (Arvind Kejriwal)।

প্রথম থেকে কেজরীবাল এগিয়ে থাকলেও, এখন চরম টক্কর দিচ্ছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, দিল্লীর ৭০ টি আসনের মধ্যে ২৭ টি তে এগিয়ে রয়েছে আম আদমি পার্টি। আর ১১ টি আসন দূরে থেকে ১৬ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

আরেকদিকে কংগ্রেস এবং অন্যান্য দল কোন আসনে এগিয়ে নেই। নির্বাচন কমিশনের এই তাজা আপডেট দেখে এটা স্পষ্ট যে, দিল্লীর ফলাফল সবাইক চমকে দেবে।

আপ জয়ের ইঙ্গিত পেতেই খালি হল শাহিনবাগ! ধরনার নামে এই নাটক কি শুধু বিজেপিকে হারানর জন্যই ছিল?

বহু প্রতীক্ষিত দিল্লী বিধানসভার ভোটের (Delhi Assembly Election) আজ ফলাফল ঘোষণা হচ্ছে। প্রত্যাশা, অপেনিয়ন পোল আর এক্সিট পোল অনুযায়ী দিল্লীতে একছত্র ভাবে ক্ষমতায় আসতে চলেছে আম আদমি পার্টি (AAP)। এবং তৃতীয় বারের জন্য দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন আম আদমি পার্টির সংস্থাপক অরবিন্দ কেজরীবাল (Arvind Kejriwal)।

আজকের শাহিনবাগ

দিল্লীর বিধানসভা নির্বাচনে সবাই নজর লাগিয়ে বসে ছিল। কারণ দিল্লী দেশের রাজধানী ছাড়াও হয়েও উঠেছিল নাগরিকতা সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রদর্শন, হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং দেশ বিরোধী মন্তব্যের আখড়া। শুরুটা হয়েছিল জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (Jamia Millia Islamia) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দ্বারা হিংসাত্মক প্রদর্শন দিয়ে। এরপর সিলমপুর তারপর শাহিনবাগে (Shaheen Bagh) মুসলিম মহিলাদের ধরনা।

এখানেই শেষ না! এরপর চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল জওহর লাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন গবেষক ছাত্র শারজিল ইমামের দেশ বিরোধী স্লোগান। সিএএ এর বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকারের মাথা হেট করতে শারজিল আহমেদ ভারতের মুসলিমদের এক হয়ে ভারত থেকে আসাম আর পুর্বের রাজ্য গুলোকে আলাদা করার ডাক দিয়েছিল।

দিল্লীর হিংসায় সবথেকে বেশি নাম যার উঠেছিল, সে হচ্ছে আম আদমি পার্টির বিধায়ক আমাতউল্লাহ খান। তিনি এবারও আম আদমি পার্টির টিকিটে ওখলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। ওখলা বিধানসভার অন্তর্গত শাহিনবাগ। যেখানে প্রায় দুই মাস ধরে রাস্তা ব্লক করে চলছে ধরনা প্রদর্শন।

এই আমাতউল্লাহ খানের বিরুদ্ধে সিএএ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলের নামে দাঙ্গা, হিংসা আর সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার যথেষ্ট প্রমাণ ছিয়েছিল দিল্লী পুলিশ। এবারের নির্বাচনে ওখলা বিধানসভা এলাকা থেকে আমাতউল্লাহ খান এগিয়ে রয়েছে।

তবে সবথেকে আশ্চর্য ব্যাপার হল, দিল্লীর ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই খালি হয়ে যাচ্ছে শাহিনবাগ। আজ সকাল থেকে সেখানে ধরনা দেওয়ার জন্য হাতে গোনা দুই একজন পৌঁছেছেন। বিজেপির নেতারা আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে, দিল্লীর ফলাফল ঘোষণা হলেই শাহিনবাগ ফাঁকা হয়ে যাবে। কারণ এই ধরনার পিছনে হাত রয়েছে কেজরীবালের। আর সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। বিজেপিকে হারানর উদ্দেশ্যেই যে শাহিনবাগে এই ধরনা বসেছিল, সেটা এখন স্পষ্ট বোঝাই যাচ্ছে।

কানাইয়া কুমারকে আবারও বেধড়ক পেটালো জনতা! ধরে মুখে লাগিয়ে দেওয়া হলো কালি, ছোড়া হলো ডিম

বামপন্থী নেতা কানহাইয়া কুমার (Kanhaiya Kumar)CAA নিয়ে জ্ঞান দিতে বিহারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু জনতা কানাইয়া কুমারের উপর এতটাই আক্রোশিত যে এই নিয়ে তার উপর চতুর্থবার জোরদার হামলা করা হয়েছে। বিগত ৩ বার কানহাইয়া কুমার  একটু আধটু তাড়া খেয়েছিল। তবে এবার জনতা তাকে বেধড়ক মারধর করেছে। কানাইয়া কুমারকে ধরে তার মুখে কালি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। জোরপূর্বক পোড়া মবিল কানাইয়া কুমারের মুখে লেপে দেওয়া হয়েছে। ঘটনা বিহারের জেমুই জেলার যেখানে CAA এর বিরুদ্ধে মানুষজনকে বোঝাতে গেছিল কানহাইয়া কুমার ।

কানহাইয়া কুমার তার কমরেডদের সাথে গিয়ে মহিসৌরী চৌকের কাছে পৌঁছেছিলা। সেখানেই ক্রুদ্ধ জনতা তার উপর চড়াও হয়। প্রথমে কিছু যুবক কানাইয়া কুমারের কাফেলা ঘিরে ফেলে এবং ডিম ছুঁড়ে আক্রমণ করে। এরপর যা ঘটে তা কানাইয়া কুমারের জন্য বেশ দুর্ভাগ্যজনক।

কানাইয়া কুমার যুবকদের হাতের নাগালে চলে এলে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। যুবকরা কানাইয়া কুমারকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। কানাইয়া কুমারকে কিছুজন যুবক ধরে পোড়া মবিল মুখে লাগিয়ে দেয়। কানাইয়া কুমারের মুখে কালি লাগানোর পর লোকজন একটু শান্ত হয়। যারপর পুলিশের সহায়তায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

প্রসঙ্গত জনিয়ে দি এখন বিহারের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে কানাইয়া কুমার CAA এর বিরোধী প্রচারের জন্য নামছেন। আর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে মানুষের আক্রোশের মুখোমুখি হচ্ছেন।এর আগেও কানাইয়া কুমারকে আরো ৩ টি স্থানে পেটানোর খবর শোনা গেছিল। এর আগে বিহারের মাধেপুর জেলা ও সুপল শহরে কানাইয়া কুমারের উপর আক্রমন করা হয়েছিল।

তৃণমূল নেতা শাহাদাত হোসেন তরুণীকে দিলো হুমকি! দিলো অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে ও খুনের ধমকি

এই ধরনের ঘটনা এখন পাকিস্তান, বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন কট্টরপন্থীদের উপদ্রব খোলাখুলিভাবে ভারতেও দেখা মিলছে। যে ব্যাক্তির ছবি উপরে দেখা মিলছে তার নাম শাহাদত হোসেন। এই শাহাদাত হোসেন পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার (Kolkata) বেলগাছিয়া অঞ্চলের। শাহাদাত হোসেন মমতা ব্যানার্জীর (Mamata Banerjee) দল তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির নেতা যার বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক পরিবারের মেয়ে তৃণমূল নেতা শাহাদত হোসেনের হুমকির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বলা হচ্ছে শাহাদত হোসেন এক তরুণীকে অপহরণ করার হুমকি দিয়েছে। জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে কু-কর্ম করার হুমকি দিয়েছে শাহাদত হোসেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে জানিয়েছে তরুণী। শাহাদত হোসেন তরুণীকে জোর করে বিয়ে করার হুমকিও দিয়েছে।

শুধু এই নয়, তরুণীর মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে জ্বালাতনের অভিযোগও রয়েছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেনের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে তরুনী।

যদি বিয়ে না করে তাহলে তরুণী ও তার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি এসেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এখন পরিবার ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে এবং মেয়েটির বাইরে বেরোনো পর্যন্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শাহাদাত বলেছে তার উপর মহল অবধি জানাশোনা রয়েছে তার কেউ কোনকিছু করতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় এমন হুমকির ঘটনা ঘটছে অথচ প্রশাসন কেন নীরব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে থাকা তৃণমূল সরকার কেন নারী সুরক্ষা নিয়ে কেন অসচেতন তার উপরেও উঠছে প্রশ্ন।

বাইবেল ও কোরআন বিলিতে নেই বাধা, কিন্তু হনুমান চল্লিশা বিলিতে বাধা! এ কেমন ধৰ্মনিরপেক্ষতা কলকাতা বইমেলায়?

রবিবার দিন কলকাতা বইমেলায় (Kolkata Book Fair) অন্তিম দিন ছিল, আর শেষ দিনে যা আশা করা হয়নি তাই ঘটলো। আসলে কলকাতা বইমেলার শুরুর দিন থেকে বিনা বাধায় ফ্রিতে বাইবেল, কোরান বিতরণের ঘটনা ঘটছে। সেক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশ বা প্রশাসন কোনো বাধা দেয়নি। তবে রবিবার দিন বিশ্বহিন্দু পরিষদের স্টল থেকে হনুমান চল্লিশা বিতরণ করা হলেই সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর অভিযোগে বাধা প্রদান করা হয়।

এখন এ প্রসঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নঃ উঠতে শুরু হয়েছে। বাইবেল, কোরান বিতরণ নিয়ে সরকারের কোনো বাধা নেই, কিন্তু হনুমান চল্লিশা বিতরণে সাম্প্রদায়িকতা কেনো চোখে পড়ছে তার উপরেই প্রশ্নঃ উঠেছে। রবিবার দিন কলকাতা বইমেলার অন্তিম দিন ছিল এবং ভিড় দেখার মতো ছিল। কলকাতা বইমেলার

VHP বইমেলার সমস্থ নিয়ম মওনে ও ফিস দিয়ে ৩৭০ নাম্বার স্টল পেয়েছিল। VHP তাদের স্টল থেকে হনুমান চল্লিশা বিলি করছিল। কিন্তু পুলিশ সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলে হনুমান চল্লিশা বিলি বন্ধ করে দেয়। পুলিশের এক তরফা কার্যবাহী দেখে লোকজন সেখানে জড়ো হতে থাকে, শুরু হয় শ্লোগানবাজি। লোকজনের সাথে সাথে নেতারাও জমায়েত হয়েছিল।

যার পর পুলিশ VHP এর স্টলকে চালু রাখার অনুমতি দেয়। অনেকে বলেছেন পুলিশ বিষয়টি ভুল বুঝে হনুমান চল্লিশা বিতরণে বাধা দিয়েছিল। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জীর সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদীদের দমনের বহু অভিযোগ রয়েছে। এমন অবস্থায় কলকাতা বইমেলায় VHP এর স্টলের হনুমান চল্লিশা বিতরণ বাধাকে খারাপ চোখে দেখছে সমাজের একাংশ।

Design a site like this with WordPress.com
Get started